১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
shadhin kanto

দুই মেয়েসহ ৫৪ দিন কেবিনে রোগী

প্রতিনিধি :
স্বাধীন কন্ঠ
আপডেট :
জুলাই ৯, ২০২৪
17
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

টানা ৫৪ দিন দুই মেয়েকে নিয়ে যশোর কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি মাহমুদা খাতুন নামে এক রোগী। হাসপাতালটির সপ্তম তলায় ৭০৩ নম্বর কেবিনে ভর্তি তিনি। ভর্তির ফরমে ঠিকানা ব্যবহার করেছেন বকচর যশোর। গেল ১৬ মে ইনফেকশন জনিত জটিলতা নিয়ে তাকে হাসপাতালটিতে ভর্তি করেন তার দুই কন্যা। এরপর থেকে দীর্ঘদিন তিনি হাসপাতালের কেবিনটিতে অবস্থান করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন যে সমস্যা নিয়ে তিনি ভর্তি হয়েছিলেন সে সমস্যা পুরোপুরি ঠিক হয়ে গেছে। এখন তিনি সুস্থ। অথচ তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করছেন না।

এদিকে রোগীর স্বজনদের দাবি তাদের রোগীকে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার দায়ভার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আড়াল করতে তাদের বিভিন্ন ধরণের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে কোনো সমাধান না হওয়াতে কুইন্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যশোর সিভিল সার্জন অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকালে যশোর সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিনিধি দল হাসপাতালটিতে যান। দুই পক্ষের তথ্য প্রমাণ দেখেন। এ সময় এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে আসে। প্রথমে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলতে না চাইলেও পরবর্তীতে রোগীর স্বজনরা গনমাধ্যমে অভিযোগ তুলে ভুল চিকিৎসার কথা দাবি করেন।

জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে শারীরিক নানা অসুস্থতা নিয়ে মাহমুদা খাতুন কুইন্স হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহবুব আলমের তত্বাবধায়নে চিকিৎসা নেন। বর্তমানে তিনি লিভার, হার্ড, ডায়াবেটিসসহ নানাবিধ জটিলতায় ভুগছেন। এর মধ্যে তলপেটের সিপাসিচ সিচ অপারেশন করেছেন। ১৭ মে রাতে তাকে অপারেশন করেন ডা. মাহবুব আলম। পরবর্তীতে তার ঘা শুকিয়ে গেলেও অজানা ভয়ে তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে থেকে যান।

মাহমুদা খাতুনের বড় মেয়ে রাবেয়া বসরি ও ছোট মেয়ে ফাতেমা তুজ জোহরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের মা মাহমুদা খাতুনের শরীরে অন্য সমস্যা থাকার পরও ডা. মাহবুব আলম তড়িঘড়ি করে অপারেশন করেছেন। অপারেশনের পর তাদের হাসপাতালে ভর্তি নিচ্ছিলো না। তারা অন্য চিকিৎসকের পরার্মশ নিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন হার্ড, লিভার, ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে সে রোগীকে অপারেশন করা যায় না। এখন তারা তাদের মায়ের সাথে হওয়া ভুল চিকিৎসার খেসারত দিচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে প্রতিনিয়ন তাদের বের হয়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তাদের বিষয়টা মিডিয়াতে না প্রকাশ করা ও গোপনে হাসপাতাল ত্যাগ করার জন্য নগদ মোটা অংকের টাকারও অফার করেছে।

এই সব বিষয়ে কুইন্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইটি অ্যাডমিন হাসান ইমান শিমুল বলেন, তারা একটি ফোঁড়া অপারেশনের জন্য আসেন। এই বিষয়ে সাধারণত আউটডোরে চিকিৎসা করানো হয়। তারা তাদের ৫ তলা বাড়িতে রোগী নিয়ে উঠতে পারবে না তাই বলে হাসপাতালের একটি কেবিন বুক করেন। দীর্ঘ দিন তারা কেবিনে থাকছেন। তাদের রোগী যে সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন সে সমস্যা পুরোপুরি ঠিক হয়ে গেছে । তারপরও তারা কেবিন ছাড়ছেন না হাসপাতালের বিল ,এমনকি ফার্মেসির ওষুধের বিলও পরিশোধ করছেন না। তার সাথে দুই মেয়ে থাকেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক। প্রতিদিন রাত ১০ টা থেকে সাড়ে ১০ টাই এক একজন করে বের হয়ে যান। গভীর রাতে হাসপাতালে ফেরেন। তাদের কেবিনে কাউকে প্রবেশ করতে দেন না। এমনকি দায়িত্বরত নার্সদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। তাদের ছাড়পত্র দেওয়ার পরও তারা যাচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, কোন গতি না দেখে আমরা যশোর সিভিল সার্জন অফিসে লিখিত অভিযোগ করি। সিভিল র্সাজন অফিস থেকে লোক এসেছেন । রোগীর আনীত অভিযোগের বিষয়ে বলেন, তাদের স্পষ্ট ভাবে বলে দেওয়া হয়েছে যদি মনে করেন ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে আপনারা মামলা করতে পারেন।

এ বিষয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো: নাজমুস সাদিক বলেন, আমরা দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে।

গরম খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram