২৪শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
shadhin kanto

রাস্তায় রাস্তায় মিলভিকের রমরমা প্রতারণা বানিজ্য

প্রতিনিধি :
স্বাধীন কণ্ঠ
আপডেট :
মে ১৪, ২০২২
10
বার খবরটি পড়া হয়েছে
শেয়ার :
| ছবি : 

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সাম্প্রতি যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিলভিক কোম্পানির স্বাস্থ্য সেবার নামে অভিনব প্রতারণা শুরু করেছে একটি চক্র।  কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই তারা দেশের শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ হাট বসিয়ে হরেক রকম প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা লুটে নিচ্ছে। বিকাশের পার্টনার ও তামিম ইকবাল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর উল্লেখ করে মানুষের চিকিৎসার ইন্স্যুরেন্সসহ নানা প্রলোভন দেখাচ্ছে। রক্ত পরীক্ষা ও প্রেসার মেপে মানুষকে জিম্মি করছে তারা। এরপর  বিকাশের মাধ্যমে টাকা কেটে নিচ্ছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। যদিও পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে যশোর শহরের দড়াটানা মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, পিকআপ সাজিয়ে প্রচারণা চলছে। অন্তুত ১৫ জন যুবক পথচারীদের দাড় করিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখাচ্ছেন। কেউ বলছেন ‘আপনাকে সারাজীবন চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে’। আবার কেউ বলছেন ‘আইডি খুললেই পুরস্কার আসবে’। সেক্ষেত্রে গ্রাহককে সিলভার, গোল্ড, প্লাটিনাম, লাইভ প্যাকেজসহ নানা ধরনের প্রস্তাব দিচ্ছেন। লাখপতি বনে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। একই সময় দেখা যায়, সুসজ্জিত পিকআপ ভ্যানের ওপর বসে এক নারী নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন। কখনো প্রেসার মাপছেন, আবার কখনো রক্ত পরীক্ষা করছেন। ওইসময় এক পাশে কয়েক যুবক টাকা হাতিয়ে নেন।

কথা হয় সুজলপুর গ্রামের চর্মকার রবীন দাস ও বারান্দিপাড়ার আবুল আলীসহ আরও কয়েকজনের সাথে। তারা জানান, ওই যুবকেরা স্বাস্থ্যসেবা দেবেন বলে মিলভিকে আইডি খুলতে মোবাইল ফোন নেন। এরপর তাদেরকে প্রলোভন দেখান সেখানে আইডি খোলার পর প্রতিমাসে টাকা দেয়া হবে বলে। প্রলোভন দেখান পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের  দেশের যেকোনো হাসপাতাল থেকে  চিকিৎসা সেবা দেয়ার। হাসপাতালের খরচ অর্ধেক ধরা হবে। ওই দু’জন আরও জানান, প্রথমে তারা যুবকদের কাছে মোবাইল ফোনটি দেন। তাদেরকে বিকাশ অ্যাপে প্রবেশ করে আইডি খুলতে হবে বলে জানানো হয়। পরে তাদের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড নেয়া হয়। কিছু সময় পর রবীন দাশ দেখেন তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ১৪শ’ ৩০ ও আবুল হোসেনের ২১শ’৫ টাকা কেটে নেয়া হয়েছে। এরপর টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ওই যুবকদের কাছে কাকুতি মিনতি করতে থাকেন তারা। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে তারা হুমকি ধামকি দেন।

উপস্থিত অন্তত আরও সাত-আটজন অভিযোগ করেন, একইভাবে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কারো মোবাইল থেকে ৫শ’ আবার কারো ৩শ’, ২শ’ করে টাকা কাটা হয়েছে।

এসময় মিলভিকের যুবকদের সাথে ভুক্তভোগীদের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে ওই তিন যুবককে আটকে রাখে স্থানীয়রা। এসময় কথা বলতে বলতেই মিলভিকের গাড়িটি দড়াটানা থেকে পালবাড়ির উদ্দেশ্যে সটকে পড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। তখন পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা এসে ওই তিন যুবক ও ভুক্তভোগীদের ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
তারপর মিলভিকের ওই গাড়িটি এবার পালবাড়ি মোড়ে অবস্থান নেয়। শুরু করে একই কর্মকান্ড। ওই জায়গায় সোনিয়া নামে এক নারীর কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ২১শ’ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। সোনিয়া জানান, তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নেয়া হয়। এরপর মিলভিকে প্রবেশ করার জন্য পাসওয়ার্ড নেয়। একপর্যায়ে ওই টাকা কেটে নেয়া হয়। এরমধ্যে পুরাতন কসবা ফাঁড়ি পুলিশ গিয়ে পালবাড়ি থেকে ১৩ জন যুবক, একজন কথিত ডাক্তার ও গাড়ি নিয়ে আসে ফাঁড়িতে।

পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, সানিফা ইয়াসমিন নামে যিনি ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছিলেন তিনি আসলে ডাক্তান না। পুলিশের কাছে তার স্বপক্ষে কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি তিনি। এছাড়া, যে ১৬ যুবক এ কাজ করছিলেন তাদের সকলের বাড়ি চট্টগাম জেলার বিভিন্ন এলাকায়। তারা সবাই দিন হাজিরায় এ কাজ করছেন। কোম্পানির মূল  হোতা সম্পর্কে কেউই সঠিক জবাব দিতে পারেননি।

বিষয়টি কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম জানতে পেরে ওই ১৬ যুবককে থানায় নিয়ে যেতে বলেন ফাঁড়ি ইনচার্জ রেজাউল করিমকে। রাত ১০ টার পর ইন্সপেক্টর রেজাউল তাদের নিয়ে কোতোয়ালি থানায় হাজির হন। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত যুবকদের কথা শুনে তিনি অভিযুক্তদের ভৎর্সনা করেন। ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত ও যশোর ত্যাগের শর্তে যুবকদের ছেড়ে দিতে বলেন ওসি। ফাঁড়ি ইনচার্জ রেজাউল করিম দু’পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করেন এবং ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেন।

এ বিষয়ে ওই চক্রের টিম ইনচার্জ আজগর আলী বলেন, তাদের এটি সুইডেনের কোম্পানি। তাদেরকে কোম্পানি এখানে পাঠিয়েছে। যারা অভিযোগ করেছিলেন তাদের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, যশোরের ল্যাবএইড হাসপাতাল তাদের চিকিৎসা সেবাই পার্টনার হিসেবে রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ল্যাবএইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম বলেন, ওই যুবকেরা সবাই ছাত্র। সেই বিষয়টি বিবেচনা করে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন।

মিলভিক নামে এই কোম্পানিটি যাতে যশোরের মানুষকে প্রতারিত করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গরম খবর
menu-circlecross-circle linkedin facebook pinterest youtube rss twitter instagram facebook-blank rss-blank linkedin-blank pinterest youtube twitter instagram